রেল ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির প্রয়োগ অপরিহার্য : মুনীর চৌধুরী
রেল ব্যবস্থাপনায় শতভাগ প্রযুক্তির প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত বিসিএস রেলওয়ে ক্যাডারের ৪১তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, “সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জনবাহন হলো রেলওয়ে। রেল ক্রসিং এর নিরাপত্তা, রেলের নির্ভূল সিগনালিং ব্যবস্থাপনা এবং রেলওয়ে ট্র্যাককে অন্তর্ঘাতী তৎপরতা থেকে বাঁচাতে ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।
এসময় সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনেও গুরুত্বারোপ করেন মুনীর চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যেকোন দক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার জন্য পরিদর্শন (Inspection) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তরুণ কর্মকর্তাদের স্যুট টাই পরে অফিসভবনকেন্দ্রীক দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং মাঠে ঘাম ঝরিয়ে পরিদর্শনে যেতে হবে। রেলের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যেকোন অনিয়মের ঘটনা রোধে তরুণ কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে ব্রতী হতে হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে একাডেমি, চট্টগ্রামে গত ২৬ মে অনুষ্ঠিত অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক বলেছেন, অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা অনেক বেড়েছে। সে অনুপাতে সেবার মানও বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে হৃদয়ে ধারণ করে কঠোর শৃংখলা ও অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ঘুষ ও অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ একপর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে ধ্বংস ও অধঃপতন ডেকে আনে এবং পরকালে স্রষ্টার আদালতে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়- এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। শুধু সৎ হয়ে অফিসে নীরবে দায়িত্ব পালন সমীচীন নয়। ঘুষ না খেয়েও অনেক কর্মকর্তা অবহেলায় ফাইল ফেলে রাখে, সেটাও অনৈতিক এবং বড় অপরাধ। সুতরাং সততা ও সাহসিকতার সমন্বিত শক্তি দিয়ে রেলওয়েকে আধুনিক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারলে সেটিই হবে চাকুরিজীবনের সার্থকতা। কি পেলাম বা কি পেলাম না, সে হিসেব নিকেষ করা চাকুরীর সার্থকতা নয়।”





